নকশা: চট্টগ্রামের উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে চায়

বিশ্বায়নের প্রবক্তাদের লা-জওয়াব, ইতিহাসের যে পর্যায়ে আমরা আছি তার চারিত্র্য লক্ষণ হলো তিনটি- বিশ্বায়ন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব এবং গণতন্ত্রায়ন। এই তিনটি ক্ষেত্রেই গণমাধ্যম ও যোগাযোগ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক গণমাধ্যমের বিস্তৃতি এবং এসব মাধ্যমে ভোক্তা সংস্কৃতির প্রচার ছাড়া অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ডিজিটাল যোগাযোগ ও কম্পিউটিং উভয়ের অভাবনীয় অগ্রগতি। এসব বাদ দিয়ে প্রযুক্তিগত অন্যান্য অগ্রগতির চিন্তাও অসম্ভব। লাবাস বলেছেন, ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটারের একীভূতকরণ এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির বিস্তারই এখনকার পৃথিবী সৃষ্টির ভিত্তি। The far-reaching integration of electronics and computers on the one hand, and communication technology, on the other, led to what Toffler christened "the third wave." And thus today's world came into being. The Globalization of Economy and Society. (Lubbers, the former Netherlands premier, is now a Professor of Globalization Studies)

ভোক্তা সংস্কৃতির প্রচারে এখন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাথা না ঘামালেও চলে। তারা একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রসারে দায়িত্ব দেয়। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট তার একটি অংশ। নকশা এমন একটি প্রতিষ্ঠান যারা শুধু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নকশা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ছাড়াও প্রিন্ট ও ডিজাইন, প্রকাশনা, ইন্টোরিয়র ও এক্সটেরিয়র ডেকোরেশন, মাল্টিমিডিয়া সলিউশনের সাথে নিজেদের যুক্ত রেখেছে।

২০০৩ সালে এম ইসমাইল চৌধুরীর নেতৃত্বে এক ঝাঁক তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে নকশা যাত্রা শুরু করে। প্রথম দিকে এই তারুণ্যের দলে ছিলেন কামরুজ্জামান রবিন, আলী হুসাইন, মাসুদ, প্রতাপ, সরোজ প্রমুখ। এদের পরে যোগ দেন- সাইফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ফারুক, মঈনুল শাকিব শকিক, আরাফাত রহমান রিয়াদ, মাহমুদুল হাসান রিজভীসহ আরো অনেকে। উপদেশ কিংবা পরামর্শ নকশা সাদরে গ্রহণ করে। উপদেশক বা অভিভাবকের মতো নকশার সাথে জড়িত আছেন- সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এ জে এম নুরুদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. সৈয়দ মুহাম্মদ আতহার এফসিএমএ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এম শফিকুল আলম ও অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ফিজা অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর খান, এফ এন্ড এইচ কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আহমেদ নাসিমুল হুদা নওশাদ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (এ এন্ড এফ) ইমরান আবু হাসান এসিএ।

নকশা নতুন আঙ্গিকে এখন সেজেছে। বিশাল তার কর্ম পরিধি ও ব্যাপক নতুন এই পথচলায় সিইও ও চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন এম. ইসমাইল চৌধুরী। চিফ অপারেটিংয়ের দায়িত্বে আছেন মাসুদুল আলম। আরো আছে সাইফুদ্দিন খোন্দাকার রায়হান, তাজুল ইসলাম বাবু, সাব্বির আহমেদ তামিম, নকশার সিইও ও চেয়ারম্যান এম ইসমাইল চৌধুরী এবং তার কর্মী বাহিনীর সকলে ক্রিয়াশীল। নতুনত্ব সৃষ্টির উম্মাদনায় তারাবিশ্বাসী। ১৯৯৪ সালে বিএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০০১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। স্ত্রী রোমেনা সুলতানা নিউমুরিং আহমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাদের একমাত্র সন্তান ইমাদুল ইসলাম চৌধুরী রাইফ, মাত্র তিন বছরে পা রাখল। ইসমাইল চৌধুরীর বাড়ি ফেনীর বালিগাঁও হলেও বন্দর নগরী চট্টগ্রামেই তাঁর জন্ম। বাবা আলীম উল্লাহ চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের সাব-এসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার।

নকশার সিইও ও চেয়ারম্যান এম. ইসমাইল চৌধুরী জানান, আমি ভিন্ন ধারার কিছু করতে চাই। ইতোমধ্যে ১০ মিনিটের ‘সুনামি’ তথ্যচিত্র নির্মাণ করছি এবং বেশ আদৃত হয়েছে সুধীমহলে। দেশীয় সংস্কৃতির লালন ও বিকাশের অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাবে বাংলাদেশে প্রথম শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করি চিলড্রেন চাইল্ড ফেয়ার ফিল্ম সোসাইটির ব্যানারে। আমার সকল কাজের মূল উৎস চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের আবর্তে সবকিছু করতে চাই। আগামীতে ইচ্ছে আছে ইন্ডাষ্ট্রিতে কাজ করার, যা হবে চট্টগ্রাম ভিত্তিক। এমন কিছু করবো যা চট্টগ্রামকে ভিত্তিভূমি হিসেবে গড়ে তুলবে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দিকেও আমরা চট্টগ্রামের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্বের সাথে দেখি। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে আমাদের উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হচ্ছে গত ১৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ক্লাবে অনুষ্ঠিত দৈনিক আজাদীর গোলটেবিল বৈঠক। এছাড়াও ২০০৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা শীর্ষক দৈনিক আজাদী নকশা গোলটেবিল বৈঠক। বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন সংবাদপত্র দৈনিক আজাদী। এই পত্রিকারসাথে সংযুক্ত হতে পেরে নকশা গর্ববোধ করে। এজন্য সম্পাদক এম এ মালেক ও পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেকের কাছে নকশা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

নকশা উন্নয়নের অংশীদার হতে চায়। নকশার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সকল কাজ শিল্প সৌকর্যময়। আছে রুচি ও পরিশীলতার ছাপ। এম. ইসমাইল চৌধুরীর নেতৃত্বে নকশা আরো সম্মুখপানে এগিয়ে যাবে, পৌঁছাবে অভীষ্ট লক্ষ্যে- আশা করছি।